বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজে’লার ফরিদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা নওরোজ হীরা সিকদার। তিনি ফরিদপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। তাছাড়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং আরেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যও তিনি।

সেই সুবাদে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বেতনসহ বিভিন্ন ফি মওকুফ ও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে, স’ম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরে অ’ন্তরঙ্গ ভিডিওচিত্র মুঠোফোনে ধা’রণ করে সেটি দেখিয়ে ফাঁ’দে ফে’লে ধ”ণ করেন। এমনকি সেটাও গো’পনে ভিডিও করেন।

ইন্টারনেটে ছ’ড়িয়ে দেয়ার ভ’য় দেখিয়ে ওই ছা’ত্রীদের অ’নৈতিক স’ম্পর্ক রাখতে বা’ধ্য করতেন তিনি। সম্প্রতি নওরোজ হী’রার স’ঙ্গে জমি নিয়ে এক প্রতিবেশীর ঝ’গড়া হয়। একপর্যায়ে তারা মা’রামা’রিতে জ’ড়িয়ে পড়েন। এ সময় নওরোজ হীরার পকেট থেকে তার মুঠোফোন পড়ে যায়। পরে গ্রামের এক ব্যক্তি ওই মুঠোফোন কু’ড়িয়ে পান। মুঠোফোনটির মেমোরি কার্ডে সংরক্ষণ করে রাখা ১১ ছা’ত্রীকে, ধ”ণের ভিডিও সম্প্রতি গ্রামবাসীর মোবাইল ফোনে ছ’ড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পর এলাকা ছে’ড়ে পা’লিয়ে যান নওরোজ হীরা। নওরোজ হী’রার ক’ঠোর শা’স্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, নওরোজ হীরা এমন চ’রিত্রহীন, ভ’য়ংকর মানুষ সেটা আমাদের জানা ছিল না। সে একাধিক ছা’ত্রীকে ফাঁ’দে ফে’লে ধ”ণ করেছে। সে একজন সিরিয়াল ধ’র্ষক।

অ’পকর্মের কারণে তার দৃ’ষ্টান্তমূলক শা’স্তি হওয়া দরকার। এদিকে লোকলজ্জার ভ’য়ে ভু’ক্তভোগী ছাত্রীরাও এ ব্যাপারে কোনো মা’মলা করেনি। তবে ধ”ণের বি’ষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার শি’কার এক ছাত্রীর (১৬) মা বা’দী হয়ে, গত বুধবার বাকেরগঞ্জ থানায় নওরোজ হীরার বি’রুদ্ধে মা’মলা করেছেন।

নি’র্যাতনের শি’কার আরেক ছাত্রীর স্বজন মৌখিক অ’ভিযোগ করেছেন। নওরোজ হীরা বাকেরগঞ্জ উপজে’লার ফরিদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের মৃ’ত আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে। হীরা দুই স’ন্তানের জনক। তবে একাধিক মেয়ের সঙ্গে অ’বৈধ সম্পর্কের কারণে কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন।

পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, নওরোজ হীরা নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত এবং সাংবাদিক বলে পরিচয় দিতেন। বাকেরগঞ্জ উপজে’লায় জাতীয় পার্টির অবস্থান বেশ ভালো। নওরোজ হীরা জাতীয় পার্টির নেতা বলে পরিচয় দিতেন। উপজে’লার জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল। নেতাদের আশীর্বাদে মধ্য ফরিদপুর স’রকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ পান তিনি।

একইভাবে কারকধা একেএম ইনস্টিটিউশন নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ বাগিয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, নওরোজ হীরা নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

তিনি ফরিদপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। নওরোজ হীরা নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত বলে পরিচয় দিয়ে আসলেও সম্প্রতি জানা গেছে তিনি এইচএসসি পাস। প্রায় দুই দশক আগে এক নারীর সঙ্গে অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডে ধরা পড়ে এলাকা ছেড়ে পা’লিয়ে ঢাকায় যান নওরোজ হীরা।

সেখানে স’রকারি একটি হাসপাতালের দালাল চ’ক্রের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি ওই চ’ক্রের হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। ওই সময় হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ের প্রলোভনে মেলামেশা করেন। পরবর্তীতে ওই নার্সের স্বজনদের চা’পে পড়ে তাকে বিয়ে করতে বা’ধ্য হন নওরোজ হীরা। কয়েক বছর পর বিয়ের কথা গো’পন করে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শা’রীরিক সম্পর্ক করেন। একপর্যায়ে ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবসী তাকে ধরে মাথা ন্যা’ড়া করে দেন।

অ’পকর্মের কারণে স্ত্রীও তাকে তালাক দেন। এরপর গ্রামে ফিরে আসেন নওরোজ হীরা। একটি অনুমোদনহীন অনলাইন পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন। এরপর নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উপজে’লার জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েন।

অ’ভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে ১১ ছাত্রীকে ফাঁ’দে ফে’লে ধ”ণ করেছেন নওরোজ হীরা। সম্প্রতি তার ধ”ণের ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়লে এলাকা ছেড়ে পা’লিয়ে যান তিনি। বাকেরগঞ্জ উপজে’লা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, ফরিদপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির কমিটি ভে’ঙে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ৫১ জন। ওই তালিকায় নওরোজ হীরার নাম থাকতে পারে। তার অ’পকর্মের বি’ষয়টি আমার কানে এসেছে। বর্তমানে আমি এলাকায় নেই। ঘটনা যদি সত্য হয় এলাকায় ফিরে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তার বি’রুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বলেও জানান এই নেতা।