স্বা’মীর স’ঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনটা চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে ঘিরে বেশ পুরানো। বিভিন্ন সময়ে গনমাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদের ব্যাপারে বেশ কিছু প্রতিবেদনও প্র’কা’শ হয়েছিল।

কিন্তু বরাবরই অস্বী’কা’র ক’রে গেছেন এই নায়িকা। জানিয়েছেন, স্বা’মীকে নিয়ে খুবই ভালো ও সুখে আছেন। তবে সত্যিটা খুব বেশিদিন আড়াল করতে পারলেন না মাহি। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (২৩ মে) মাহি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে জানান স্বা’মীর স’ঙ্গে বিচ্ছেদের খবর।

প্রথমে ভক্তরা ভেবে নিয়েছিল স্বা’মী মাহমুদ পারভেজ অপুর স’ঙ্গে পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন মাহিয়া মাহি। কারণ এই দম্পতির বি’য়ে হয়েছিল ২০১৬ সালে। কিন্তু দেশের একটি জনপ্রিয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহি জানালেন, তাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে আরও দুই বছর আগেই।

তার মানে এই নায়িকার দাম্পত্য জীবন টিকেছিল তিন বছর। মাহির দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৯ সালেই স্বা’মী অপুর স’ঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে তার। দেশের একটি জনপ্রিয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহি জানান, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ ক’রে নেওয়া নয়। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে।

কিন্তু ব্যাপারটা দুই পরিবার ছাড়া কেউ জানত না। বলতে পারেন, সবাইকে জানানোটা হঠাৎ ক’রেই। জানানোর কারণও আছে। বিচ্ছেদের পরও গত দুই বছর আমরা দুজন বিভিন্ন জায়গায় একস’ঙ্গে ঘুরেছি, আড্ডা দিয়েছি। সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। এসব দেখে মানুষ আসল ঘ’ট’নাটা জানতে পারেনি।

এই ছবি দেখে সবাই ভাবেন, আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। মানুষ আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা ক’রে, আমি ঢাকায় না কি শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। এটা শুনতে নিজের কাছেই পেইন লাগে, অস্বস্তি লাগে। আমার মনে হয়, অপুকে আরও বেশি অস্বস্তিতে পড়তে হয়। কারণ, মানুষ তো জানেন না আমাদের বিচ্ছেদ আগেই হয়ে গেছে।

আমার মনে হয়েছে বিষয়টি সবার জানা উচিত। অপুর জন্যই সেটা বেশি দরকার। কারণ, বিষয়টি পরিষ্কার না হলে সে তো এগোতে পারবে না। আমি হয়তো আমার মতোই থেকে যাব। নিজের মতো ক’রে মানিয়ে নিতে পারব। আমি অপুর পরিবারকে বেশি ভালোবাসি। তাই মানবিক কারণেই বিষয়টি পরিষ্কার ক’রে দিলাম।

তবে এতদিন কেনো এই সত্যটা চে’পে ছিলেন মাহি? সেই উত্তরও দিয়েছেন। মাহি বললেন, মনে হয়েছিল এই সময়টার মধ্যে সব জাগতিক ঝামেলাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব। কিন্তু পারিনি। অপু আমাকে খুব ভালোবাসে। সে বেশি ক’রে চাইত সর্ম্পকটা ধরে রাখতে। সেই ভালোবাসা থেকেই অপু চেয়েছিল ঘ’ট’নাটি প্র’কা’শ না করার জন্য।

সে ভেবেছিল, হয়তো একটা সময় সব ঠিক হয়ে যাবে। তাঁর কারণেই এত দিন ঘ’ট’নাটি কাউকে জানাইনি। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছিল, বিষয়টি গো’প’ন রেখে অপুর ক্ষ’তি ক’রে যাচ্ছি। আমার কোনো রাইট নেই তাঁর ক্ষ’তি করার। আসলে এত দিন ধরে জানানো, না জানানোর দ্বিধাদ্ব’ন্দ্ব থেকে বের হতে চেয়েছি আমি।

সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মাহি বলেন, ‘মানুষের জীবনে অনেক কিছুই ঘ’টে। অনেক কিছু ভাগ্যের ওপর নির্ভর ক’রে। এইটুকু বলব, আমি অপুকে সম্মান করি। আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া নিয়ে কিছু বিষয়ে সমস্যা ছিল। যেটা হয় তো আমাদের স’ম্প’র্ক টিকতে দিল না। হয়তো আরও কিছু বিষয় ছিল।

তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ, তার ও আমার কোনো অসম্মান হোক তেমন কিছু চাই না।’ উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫ মে মাহি-অপু জমকালো আয়োজনে বি’য়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন ক’রেন।